তালেবানের ক্ষমতা কাঠামোয় জাতিগত বিভেদ ও ক্রমবর্ধমান কোন্দল
তালেবান আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসার পর অ-পশতুন কমান্ডারদের গ্রেপ্তার, পদাবনতি ও নিরস্ত্র করছে, যা তাদের শাসন কাঠামোয় জাতিগত বৈষম্য ও ক্ষমতার কোন্দলকে প্রকট করে তুলছে।

সম্প্রতি জাবুল প্রদেশের উপগভর্নরের পদ থেকে প্রভাবশালী তাজিক কমান্ডার হাজি জুম্মা খান ফাতেহকে অপসারণ করা হয়েছে। এটি তালেবানের শাসনব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী একটি জাতিগত প্রবণতার অংশ, যেখানে অ-পশতুন কমান্ডারদের প্রয়োজন শেষে সরিয়ে দেওয়া হয়, বিশেষ করে যখন তারা স্বাধীন শক্তিতে পরিণত হন। ফাতেহর মতো প্রভাবশালী তাজিক কমান্ডারদের ক্ষমতা দখলের পর প্রান্তিক করা হচ্ছে।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের 'তালেবান লিডারশিপ ট্র্যাকার' অনুযায়ী, তালেবানের ১ হাজার ২১৫ জন জ্যেষ্ঠ ও মধ্যম সারির নেতার মধ্যে ৯০ শতাংশই পশতুন হলেও আফগানিস্তানে পশতুনদের জনসংখ্যা ৪০-৪৫ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান জাতিগত বৈষম্য ও ক্ষমতার অসম বণ্টনের ইঙ্গিত দেয় এবং তাজিক ও উজবেক নেতাদের উপস্থিতি কেবল প্রতীকী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ।
তালেবানের শাসনব্যবস্থা ক্রমেই একটি বদ্ধ ক্ষমতার বলয়ের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কান্দাহার থেকে ঘনিষ্ঠ পশতুন সহযোগীদের নিয়ে শাসন পরিচালনা করছেন। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় অন্য জাতিগোষ্ঠীর কার্যকর প্রতিনিধিত্ব দেখা যাচ্ছে না।
তালেবানের নীতিতে অ-পশতুন কমান্ডারদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছে। তাজিক কমান্ডার গুলাম হুসাইনকে গ্রেপ্তার এবং উজবেক কমান্ডার মাখদুম আলম রাব্বানিকে আটকের ঘটনাগুলি এই অভ্যন্তরীণ বিভাজনেরই প্রমাণ। জাতিসংঘও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের অভাবকে আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনঃএকত্রীকরণের পথে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তথ্য যাচাই
ঘটনাপ্রবাহ
মন্তব্য
- আআরিফ হাসান
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি।
- ননাফিসা তাবাসসুম
প্রতিবেদনটি খুবই তথ্যবহুল হয়েছে।
- সসজীব রায়
বেসরকারি খাতেও সমন্বয় জরুরি।