বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
নাগরিকবার্তা২৪
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন রণক্ষেত্র ও ঝুঁকি

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং মূল্যস্ফীতির উপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। এটি আন্তর্জাতিক নৌচলাচল নীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নানাগরিক বার্তা ২৪ প্রতিবেদক১৬ জুলাই, ২০২৬ এ ০৫:৪০ PM· 2 মিনিট পাঠ
হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন রণক্ষেত্র ও ঝুঁকি
হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন রণক্ষেত্র ও ঝুঁকি
পাঠ মোড
18

হরমুজ প্রণালি এখন শুধু একটি যুদ্ধক্ষেত্র নয়, এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অন্যান্য পণ্যের পরিবহনের জন্য এটি অন্যতম প্রধান বাণিজ্যপথ। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি সংঘাতের পর ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে উন্মুক্ত সমুদ্রে অবাধ নৌ চলাচলের নীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভিত্তি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে এবং এরপর থেকে এটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে হরমুজ দিয়ে চলাচল করতে বিদেশি জাহাজগুলোকে ইরানের নবগঠিত পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষের (পিজিএসএ) সঙ্গে সমন্বয় করতে হচ্ছে এবং এর জন্য মোটা অঙ্কের অর্থও গুনতে হচ্ছে। গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর টোল আদায় সাময়িকভাবে স্থগিত হলেও, ইরানের দাবি তারা চুক্তিটির একটি ধারাকে নিজেদের কর্তৃত্বের আইনি ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে হরমুজে নিরাপত্তার বিনিময়ে বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে ২০ শতাংশ মাশুল নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও, দ্রুতই তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসেন। ট্রাম্পের এই প্রস্তাব অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও ইরানের অবস্থানের বৈধতা তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। এই মাশুল কার্যকর হলে অতি বৃহৎ তেলবাহী জাহাজের জন্য প্রতি যাত্রায় প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতো, যা সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করত।

হরমুজে নিয়মিত টোল আদায় শুরু হলে শুধু পরিবহন ব্যয়ই বাড়বে না, বিমা খাতেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হবে। যদিও জাহাজ মালিকরা ইরানের প্রস্তাবিত ১-২ ডলার প্রতি ব্যারেল টোল দিতে রাজি, তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ পরিশোধ করলে আন্তর্জাতিক বিমা কোম্পানিগুলো বিমাসুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিভেয়ার গ্রুপের মতে, বিমা কোম্পানিগুলো আইনি বিরোধ এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

তথ্য যাচাই

AI • Fact Check

ঘটনাপ্রবাহ

AI • Timeline
এই সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য

3 মন্তব্য
  • আরিফ হাসান

    গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি।

  • নাফিসা তাবাসসুম

    প্রতিবেদনটি খুবই তথ্যবহুল হয়েছে।

  • সজীব রায়

    বেসরকারি খাতেও সমন্বয় জরুরি।