রামমন্দিরের বিতর্ক: বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি কি সংকটের মুখে?
প্রধানমন্ত্রী মোদীর রামমন্দিরের ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করা এবং এর চার দশক দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস জনসম্মুখে এসেছে। মন্দিরের ট্রাস্টের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ বিজেপির আদর্শিক ভিত্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রামমন্দির নির্মাণ দীর্ঘকাল ধরে বিজেপি, আরএসএস এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জোটের একটি প্রধান রাজনৈতিক কৌশল ছিল। এটিকে হিন্দুত্ববাদী পরিচয় পুনরুদ্ধার এবং মুসলিম শাসনের 'ঐতিহাসিক ভুল' সংশোধনের একটি 'গণ-আন্দোলন' হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে বড় ধর্মীয়-রাজনৈতিক মেরুকরণের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু ভোটব্যাংক একত্রিত করে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা।
১৯৮০ সালে বিজেপি গঠিত হলে বাজপেয়ী 'গান্ধীবাদী সমাজতন্ত্র'কে দলের মূল আদর্শ ঘোষণা করেন, কিন্তু ১৯৮৪ সালের নির্বাচনে ব্যর্থতার পর লালকৃষ্ণ আদভানি দলের নেতৃত্ব নেন। আদভানি অযোধ্যা ইস্যুটিকে কাজে লাগিয়ে 'রাম রথযাত্রা' শুরু করেন, যা ভারতের রাজনীতিকে বদলে দেয়। ১৯৮৯ সালে বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে রামমন্দির নির্মাণকে তাদের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে, যা তাদের দিল্লির ক্ষমতায় যাওয়ার পথ খুলে দেয়।
বাজপেয়ীর সংযত অবস্থান থেকে সরে এসে আদভানির নেতৃত্বে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের দিকে বিজেপির এই পরিবর্তন দলটিকে প্রান্তিক অবস্থান থেকে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করে। বিজেপির এই আদর্শিক ভিত্তি এবং নির্বাচনী চালিকাশক্তি ছিল রামমন্দির। তাই রামমন্দির ট্রাস্টকে ঘিরে ওঠা দুর্নীতি ও তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ দলের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি এই বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারে না, কারণ দলটি রামমন্দিরকে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে। ১৯৯০ সালের রথযাত্রায় আদভানির পাশে মোদির উপস্থিতি এবং ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন – সবকিছুই রামমন্দিরকে বিজেপির রাজনৈতিক প্রকল্পের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত করেছে। এই দুর্নীতির অভিযোগ বিজেপির রামমন্দির-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রকল্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
তথ্য যাচাই
ঘটনাপ্রবাহ
মন্তব্য
- আআরিফ হাসান
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি।
- ননাফিসা তাবাসসুম
প্রতিবেদনটি খুবই তথ্যবহুল হয়েছে।
- সসজীব রায়
বেসরকারি খাতেও সমন্বয় জরুরি।