মেসির মহত্ত্ব তাঁর কৃতিতে, শ্রেষ্ঠত্বের তকমায় নয়
লিওনেল মেসিকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেয়ে তাঁর নিজস্ব অর্জন এবং বিনয়কে সম্মান জানানো জরুরি। তিনি ফুটবলে যে অবদান রেখেছেন, সেটিই তাঁকে অমরত্ব দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিওনেল মেসিকে 'সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ' হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। লেখকের মতে, এই ধরনের চূড়ান্ত তকমা অন্যদের মহিমাকে খাটো করে এবং একজন মানুষের অনন্যতাকে তুলনার খাঁচায় বন্দী করে। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব কর্ম ও মানবিক দীপ্তি রয়েছে, যা সম্মান জানানো উচিত।
মেসি কখনোই নিজেকে পেলে বা ম্যারাডোনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ দাবি করেননি, এমনকি নিজের সন্তানদের সঙ্গেও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় নামেন না। তাঁর অর্জন, যেমন ট্রফি, গোল, অ্যাসিস্ট এবং নেতৃত্ব—এগুলোই তাঁর হয়ে কথা বলে। তিনি কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের খেলা দেখার সৌভাগ্যকে স্বীকৃতি দেন, কিন্তু নিজের উচ্চতা ঘোষণা করেন না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অধ্যবসায়ের প্রতীক, নেইমার শিল্পিত ফুটবলের মাধ্যমে আনন্দ দিয়েছেন, এবং এমবাপ্পে নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব নিয়েছেন। অন্যদিকে, মেসি ফুটবলকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন এবং তাঁর বিনয় তাঁকে আরও মহিমান্বিত করেছে। শেষ ম্যাচে মেসির কীর্তি দেশ, সতীর্থ, সমর্থক ও পরিবারের জন্য ছিল, যা একা তাঁর নয়, একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
মেসি কখনোই আত্মকেন্দ্রিক নন; তিনি দলকে পরিবার মনে করেন এবং সতীর্থরা তাঁকে একজন বড় ভাই ও মেন্টর হিসেবে দেখে। তাই তাঁকে একা 'সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ' সিংহাসনে বসাতে লেখক দ্বিধা বোধ করেন। লেখকের মতে, মেসির সুকৃতিই তাঁর হয়ে কথা বলুক, এবং সময় ও ইতিহাসই তাঁর বন্দনা করুক।
পৃথিবীর সব সুন্দর মানুষ, নির্মল প্রতিভা, এবং বিনয়ী মহত্ত্ব যেন মেসির মতো কৃতীদের বাগানে চিরকাল ফুল হয়ে ফোটে। শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়ে নয়, প্রত্যেককে তাঁদের নিজস্ব মহিমায় সম্মান জানিয়েই সর্বমানুষকে ভালোবাসা উচিত—এই বার্তাটিই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার মাধ্যমে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্য যাচাই
ঘটনাপ্রবাহ
মন্তব্য
- আআরিফ হাসান
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি।
- ননাফিসা তাবাসসুম
প্রতিবেদনটি খুবই তথ্যবহুল হয়েছে।
- সসজীব রায়
বেসরকারি খাতেও সমন্বয় জরুরি।