বোয়িং ও এয়ারবাস উভয়ই কিনবে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং এবং ইউরোপের এয়ারবাস উভয় সংস্থার উড়োজাহাজ কিনবে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, বিনিয়োগ বা বাণিজ্যে কোনো এক দেশকে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে না, বরং দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান যে, বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশনের উচ্চতর পর্যায় অর্জনের জন্য বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় উড়োজাহাজই প্রয়োজন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিকে উন্নত করতে কৃচ্ছ্রসাধন এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়ের নীতির সমন্বয় করছে। তাই দুটো প্রতিষ্ঠানের উড়োজাহাজই কেনা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সের সঙ্গে এয়ারবাস কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের আলোচনা চলছিল, যার অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের মে মাসে লন্ডন দ্বিপাক্ষিক ‘এভিয়েশন পার্টনারশিপ’ চুক্তির আওতায় একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম এয়ারবাস থেকে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী উড়োজাহাজ কেনা। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় অংশীদারদের কাছ থেকে সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ সুবিধা পাওয়ারও কথা ছিল।
তবে, গত বছর জুলাইয়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়, যা পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর-কষাকষির একটি অংশ ছিল। এ বিষয়ে শামা ওবায়েদ জোর দিয়ে বলেন যে, এই সিদ্ধান্ত কোনো চাপ নয়, বরং দেশের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গতকাল, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের সাক্ষাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিএনপি সরকারও দেশের স্বার্থ বজায় রেখে একটি টেকসই মিশ্র বহর তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। আজ ইউরোপীয় কূটনীতিকরা প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং সেখানেও এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি আলোচিত হয়।
তথ্য যাচাই
ঘটনাপ্রবাহ
মন্তব্য
- আআরিফ হাসান
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি।
- ননাফিসা তাবাসসুম
প্রতিবেদনটি খুবই তথ্যবহুল হয়েছে।
- সসজীব রায়
বেসরকারি খাতেও সমন্বয় জরুরি।