বিজেপির জালে এবার শারদ পাওয়ারের এনসিপি? 'ইন্ডিয়া' জোটের ভবিষ্যৎ সঙ্কটে
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের আগে বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের মধ্যে ভাঙনের সুর। শারদ পাওয়ারের এনসিপি (এসপি) শর্তসাপেক্ষে বিল সমর্থনের ইঙ্গিত দেওয়ায় জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতীয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়, কারণ বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের অন্যতম শরিক শারদ পাওয়ারের এনসিপি (এসপি) লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস ও নারী সংরক্ষণ বিলকে শর্ত সাপেক্ষে সমর্থন করার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই ঘটনা 'ইন্ডিয়া' জোটের ভবিষ্যৎ এবং কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। এর আগে আম আদমি পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং উদ্ধবপন্থী শিবসেনাতেও ভাঙন দেখা গিয়েছিল যা বিজেপির কৌশলগত উত্থানকে নির্দেশ করে।
সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে বেশ কয়েকটি বিরোধী দলে ভাঙন দেখা গেছে। রাজ্যসভায় আপের ১০ জন সদস্যের মধ্যে ৭ জন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন লোকসভা সদস্য বিজেপিকে সমর্থন জানিয়ে 'ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া' (NCPI) নামের একটি নতুন দলে যোগ দিয়েছেন। এছাড়াও, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার ৯ জন লোকসভা সদস্যের মধ্যে ৬ জন শিন্ডে সেনায় যোগ দিয়ে এনডিএ-র সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।
এবার বিজেপির নজর মহারাষ্ট্রের শারদ পাওয়ারের দলের দিকে। শারদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যদি নতুন বিলে লোকসভায় প্রতি রাজ্যের আসনসংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর কথা উল্লেখ থাকে, তবে 'ইন্ডিয়া' জোটের সঙ্গে আলোচনা করে তারা বিলটি সমর্থন করতে পারে। এই বিলগুলো, যার মধ্যে 'এক দেশ, এক ভোট' বিলও রয়েছে, পাস করাতে লোকসভা ও রাজ্যসভায় উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সম্মতি প্রয়োজন।
বাজেট অধিবেশনে এই বিলগুলি বিরোধীদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে পড়েছিল, কারণ শাসক জোট এনডিএ-র প্রয়োজনীয় গরিষ্ঠতা ছিল না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে এবং বিজেপি এখন বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিল দুটি পাস করানোর জন্য মরিয়া। শারদ পাওয়ারের দলের সমর্থন পেলেও, এনডিএ-র এখনো লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রায় ৩৩টি আসন কম থাকবে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টির সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তথ্য যাচাই
ঘটনাপ্রবাহ
মন্তব্য
- আআরিফ হাসান
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি।
- ননাফিসা তাবাসসুম
প্রতিবেদনটি খুবই তথ্যবহুল হয়েছে।
- সসজীব রায়
বেসরকারি খাতেও সমন্বয় জরুরি।