কাবাঘরের পুনর্নির্মাণ ও মুহাম্মদ (সা.)-এর বিচক্ষণ সমাধান
বৃষ্টির ভয়াবহতায় ক্ষতিগ্রস্ত কাবাঘরের সংস্কারের সময় হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে গোত্রগুলোর মধ্যে অনিবার্য যুদ্ধ এড়ালেন নবী মুহাম্মদ (সা.)।

নবীজির বয়স যখন ৩৫ বছর, তখন মক্কায় এক ভয়াবহ বন্যার কারণে কাবাঘরের দেয়াল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেকালে কাবাঘরের কোনো ছাদ না থাকায় এবং উচ্চতা মাত্র নয় হাত হওয়ার কারণে উৎসর্গিত স্বর্ণালংকার চুরির আশঙ্কা ছিল। তাই কাবাঘর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং কোরাইশ নেতারা সিদ্ধান্ত নেন যে, নির্মাণকাজে কোনো অবৈধ অর্থ ব্যবহার করা হবে না, শুধুমাত্র আল্লাহর পথের হালাল অর্থ ব্যবহার করা হবে।
কাবাঘর ভাঙার সময় প্রথম আঘাত কে করবে তা নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়, কারণ আবরাহার হস্তীবাহিনীর ঘটনার পর মক্কাবাসী ঐশ্বরিক আজাবের ভয় পাচ্ছিল। ওয়ালিদ ইবনে মুগিরাহ প্রথম শাবল হাতে নিলে এবং কোনো বিপদ না ঘটলে, বাকিরাও সাহস পায়। আল্লাহর নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর রেখে যাওয়া ভিত পর্যন্ত কাবার দেয়াল ভেঙে ফেলা হয় এবং রোম থেকে আসা একজন দক্ষ মিস্ত্রির সাহায্যে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
পুনর্নির্মাণ কাজের একপর্যায়ে হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথরকে তার নির্ধারিত স্থানে স্থাপন করা নিয়ে গোত্রগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের সম্মান এককভাবে কোনো গোত্রই ছাড়তে রাজি না হওয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে মাখজুম গোত্রের প্রবীণ নেতা আবু উমাইয়া একটি প্রস্তাব দেন: পরদিন ভোরে যে প্রথম কাবাচত্বরে প্রবেশ করবে, তার হাতে মীমাংসার ভার দেওয়া হবে।
আল্লাহর মহিমায় পরদিন সকালে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কাবাচত্বরে প্রবেশ করেন ৩৫ বছর বয়সী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ, যাকে মক্কাবাসী 'আল-আমিন' বলে সম্মোধন করত। তিনি একটি চাদর চেয়ে পাথরটিকে তার উপর রাখেন এবং প্রত্যেক গোত্রপতিকে চাদরের প্রান্ত ধরতে বলেন। এরপর সবাই মিলে পাথরটিকে দেয়ালের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর মুহাম্মদ (সা.) নিজেই এটি তার আপন জায়গায় স্থাপন করেন, যার ফলে প্রত্যেক গোত্রই সম্মান অর্জন করে এবং অনিবার্য যুদ্ধ এড়ানো যায়।
তথ্য যাচাই
ঘটনাপ্রবাহ
মন্তব্য
- আআরিফ হাসান
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি।
- ননাফিসা তাবাসসুম
প্রতিবেদনটি খুবই তথ্যবহুল হয়েছে।
- সসজীব রায়
বেসরকারি খাতেও সমন্বয় জরুরি।