হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা ও এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা
ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকিতে বিশ্ব বাজারে তেলের দামের ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা এশিয়াকে জ্বালানি নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই ঘটনা স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ এবং বিকল্প শক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

গত মার্চ মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং ৯ মার্চ তা ১১৯ ডলারে পৌঁছে, যা ২০২২ সালের জ্বালানিসংকটের পর সর্বোচ্চ ছিল। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ ছিল ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি, যার ফলে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে যায়। কয়েক মাস ধরে তেলের উচ্চমূল্য বজায় ছিল, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু উচ্চ মূল্য সামলানোর ক্ষমতা নয়, বরং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সক্ষমতাও বটে। এবারের মূল্যবৃদ্ধি স্পষ্ট করেছে যে, শক্তিশালী প্রস্তুতি ছাড়া স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। এর জন্য জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো, পর্যাপ্ত মজুত রাখা এবং কার্যকর নীতি প্রণয়ন অপরিহার্য।
তৈল সংকটের একটি দ্বৈত প্রভাব রয়েছে। স্বল্প মেয়াদে, জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে অনেক দেশ কয়লা বা অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে, এই ধরনের অস্থিরতা নবায়নযোগ্য ও বিকল্প জ্বালানিতে বিনিয়োগের অর্থনৈতিক যুক্তিকে আরও জোরালো করে, যা পরিচ্ছন্ন শক্তির দিকে পরিবর্তনে সাহায্য করে।
বিদ্যুতের ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও বাড়বে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল অর্থনীতি এবং এশিয়ার দেশগুলোতে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্যানুসারে, ২০২৪ সালে ডেটা সেন্টার বৈশ্বিক বিদ্যুৎ চাহিদার মাত্র ১.৫% ব্যবহার করেছে, যেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রায় ১০% ব্যবহার করছে। ২০৪০ সাল নাগাদ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার চাহিদা অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
তথ্য যাচাই
ঘটনাপ্রবাহ
মন্তব্য
- আআরিফ হাসান
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি।
- ননাফিসা তাবাসসুম
প্রতিবেদনটি খুবই তথ্যবহুল হয়েছে।
- সসজীব রায়
বেসরকারি খাতেও সমন্বয় জরুরি।