রেকর্ড দামে টি-রেক্সের জীবাশ্ম বিক্রি, উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা
৫০.১ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হলো বৃহৎ টি-রেক্সের জীবাশ্ম 'গাস', যা ডাইনোসর জীবাশ্মের সর্বোচ্চ নিলাম মূল্য। ব্যক্তিগত মালিকানায় জীবাশ্মের এই ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বিজ্ঞানীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি নিউইয়র্কের সোথবিস নিলামঘরে 'গাস' নামক একটি টাইরানোসরাস রেক্সের (টি-রেক্স) জীবাশ্ম ৫০.১ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে। এটি এযাবৎকালের সবচেয়ে মূল্যবান ডাইনোসর জীবাশ্ম যা নিলামে বিক্রি হয়েছে এবং এর পূর্ব-ধারণাকৃত দামকে ছাড়িয়ে গেছে। 'গাস' নামের এই জীবাশ্মটি প্রায় ৬.৭০ কোটি বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা হয়, এবং এর উচ্চতা প্রায় সাড়ে ১২ ফুট।
২০২১ সাল থেকে তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটার একটি খামারবাড়িতে খনন করে এই জীবাশ্মটি পাওয়া যায়। থেরোপোডা এক্সপেডিশনস নামের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান জমির মালিকের অনুমতি নিয়ে এটি উত্তোলন করে। খননকারী দলের সদস্য কো’ল জ্যাকবস প্রথম মাটির ওপরে ভেসে থাকা পায়ের পাতার হাড় দেখে এটিকে আবিষ্কার করেন।
তবে জীবাশ্মের এমন উচ্চ মূল্যে বিক্রি বিজ্ঞানীদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদ অধ্যাপক রিচার্ড বাটলারের মতে, ডাইনোসরের কঙ্কাল চিত্রকর্ম বা কোটি টাকার শৌখিন জিনিসের মতো চড়া দামে বিক্রি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে জাদুঘর বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে বিরল জীবাশ্ম সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জীবাশ্ম স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার অভাবে গবেষণা কাজে বাধা সৃষ্টি করে, কারণ মালিক যেকোনো সময় তা সরিয়ে নিতে পারেন। বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য জীবাশ্ম সকলের গবেষণা ও প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকা প্রয়োজন। তবে নিলাম বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বেসরকারি উদ্যোগ ছাড়া অনেক জীবাশ্মই অনাবিষ্কৃত থেকে যেত এবং এর উচ্চ দাম ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও উত্তোলনের কঠিন পরিশ্রমের ফল।
তথ্য যাচাই
ঘটনাপ্রবাহ
মন্তব্য
- আআরিফ হাসান
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি।
- ননাফিসা তাবাসসুম
প্রতিবেদনটি খুবই তথ্যবহুল হয়েছে।
- সসজীব রায়
বেসরকারি খাতেও সমন্বয় জরুরি।