প্রাচীন পুরীর রথযাত্রা: পৌরাণিক কাহিনি ও বিস্তারিত বিবরণ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব রথযাত্রা, যা আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে মূলত পূর্ব ভারতে, বিশেষ করে পুরীতে উদযাপিত হয়। এই রথযাত্রার প্রচলন, জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের রথ এবং এর বিশেষত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের প্রয়াণের পর তাঁর অর্ধদগ্ধ দেহ দ্বারকার সাগর থেকে কলিঙ্গ রাজ্যের সমুদ্রোপকূলে ভেসে আসে। সেখানে শবর আদিবাসীরা এটিকে ‘নীলমাধব’ নামে পূজা করতে শুরু করে। পরবর্তীতে অবন্তী নগরের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন নীলমাধবকে নিজের কাছে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে বিষ্ণুর নির্দেশে ভেসে আসা কাঠের টুকরো দিয়ে মূর্তি গড়ার পরিকল্পনা করেন।
অর্ধসমাপ্ত মূর্তি গড়ার কাজ শুরু হয় দারুশিল্পীর নির্দেশে, কিন্তু রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নর অধৈর্যতায় কাজটি অসম্পূর্ণ থাকে। পুরাণ অনুযায়ী, স্বয়ং বিশ্বকর্মা শিল্পী রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। নারদ মুনির পরামর্শে অর্ধসমাপ্ত এই মূর্তিকেই পূজা করা হয় এবং সেই থেকে পুরীতে জগন্নাথদেব পূজিত হয়ে আসছেন। রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নই এই রথযাত্রার প্রচলন করেন।
প্রতি বছর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন রথ তৈরির কাজ শুরু হয় এবং স্নানযাত্রার পর জগন্নাথদেব জ্বরগ্রস্ত হয়ে এক পক্ষকাল অন্তরীন থাকেন। এরপর নতুন মূর্তি তৈরি করা হয় এবং রথের দিন জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরাম তিনটি আলাদা রথে করে গুন্ডিচা মন্দিরে যান, যা তাঁদের 'মাসির বাড়ি' বলে পরিচিত।
জগন্নাথের রথ 'নান্দীঘোষ', সুভদ্রার রথ 'দর্পদলন' এবং বলরামের রথ 'তালধ্বজ' নামে পরিচিত। এই রথগুলো নির্দিষ্ট সংখ্যক চাকা, কাঠের টুকরা, উচ্চতা এবং বিশেষ রঙের কাপড় ও পতাকায় সজ্জিত থাকে। রথযাত্রার প্রাক্কালে পুরীর রাজা সোনার ঝাঁটা দিয়ে পথ পরিষ্কার করেন এবং এক সপ্তাহ পর উল্টোরথে দেবতারা মূল মন্দিরে ফিরে আসেন।
তথ্য যাচাই
ঘটনাপ্রবাহ
মন্তব্য
- আআরিফ হাসান
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি।
- ননাফিসা তাবাসসুম
প্রতিবেদনটি খুবই তথ্যবহুল হয়েছে।
- সসজীব রায়
বেসরকারি খাতেও সমন্বয় জরুরি।