নিউজার্সির বাড়িতে মহাজাগতিক উল্কাপিণ্ড, উন্মোচিত সৌরজগতের রহস্য
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই নিউইয়র্কের আকাশ থেকে আগুনের গোলার মতো ছুটে আসা একটি উল্কাপিণ্ড নিউজার্সির এক দম্পতির বাড়িতে পড়েছিল। এই বিরল ঘটনাটি বিজ্ঞানীরা দুই বছর ধরে গোপন রেখেছিলেন এবং পরবর্তীতে এতে জৈব অণু ও লবণাক্ত পানির চিহ্ন পাওয়া যায়, যা জীবনের উৎপত্তির নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কসহ কয়েকটি রাজ্যে একটি তীব্র আলোর রেখা ও বিকট শব্দ শোনা যায়। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা প্রথমে জানায়, এক ফুটের একটি গ্রহাণু বায়ুমণ্ডলে পুড়ে বাষ্প হয়ে গেছে। তবে নিউ জার্সির হিলসবোরো শহরের এক দম্পতির বাড়িতে ঠিক সেই সময়েই একটি বিকট শব্দে ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘরের ভেতর পাথরের টুকরো পাওয়া যায়।
বাড়ির মালিক নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, এই ঘটনায় বাড়ির অফিসকক্ষ কেঁপে ওঠে এবং শোবার ঘরের ছাদে বড়সড় একটি গর্ত তৈরি হয়। বালিশে তারা পাথরের মতো কালো টুকরোগুলি খুঁজে পান এবং বাতাস থেকে পচা ডিমের মতো সালফারের গন্ধ পান। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের আগে গ্রহাণুর ওজন ছিল প্রায় ১১৫ পাউন্ড, যার বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গেলেও একটি বড় অংশ অক্ষত অবস্থায় পৃথিবীতে এসে পড়ে।
দম্পতিটি অতি সতর্কতার সাথে প্রায় তিন পাউন্ড ওজনের উল্কাপিণ্ডের প্রতিটি টুকরো সংগ্রহ করেন এবং বিজ্ঞানীদের হাতে তুলে দেন। তবে এই পুরো ঘটনাটি তারা দুই বছর ধরে গোপন রেখেছিলেন। অবশেষে, গত ৮ জুলাই, সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় নিশ্চিত করা হয় যে এটি একটি সাধারণ উল্কাপিণ্ড নয়।
এই উল্কাপিণ্ডে জটিল জৈব অণু এবং লবণাক্ত পানির স্পষ্ট রাসায়নিক চিহ্ন মিলেছে, যা জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালিফোর্নিয়ার সেটি (SETI) ইনস্টিটিউটের গ্রহবিজ্ঞানী পিটার জেনিসকেনসনের মতে, এটি সৌরজগতের শুরুর দিকের একটি দুর্লভ স্মৃতিচিহ্ন, যা পৃথিবীতে জীবনের প্রয়োজনীয় উপাদান এনে দিতে পারে। দম্পতির সতর্কতার কারণে নমুনাটি প্রায় আদিম অবস্থাতেই বিজ্ঞানীদের হাতে পৌঁছেছে, যা এর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছে।
তথ্য যাচাই
ঘটনাপ্রবাহ
মন্তব্য
- আআরিফ হাসান
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি।
- ননাফিসা তাবাসসুম
প্রতিবেদনটি খুবই তথ্যবহুল হয়েছে।
- সসজীব রায়
বেসরকারি খাতেও সমন্বয় জরুরি।