দেয়ালে ওয়াসিমের সেই শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাস: 'চলে আসুন ষোলোশহর'
২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলনের পূর্বে ওয়াসিমের শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তার গ্রামের বাড়িতে এখনো দেয়ালে ফ্রেমে বাঁধাই করা আছে, যা তার শাহাদাতবরণের কয়েক ঘণ্টা পূর্বে পোস্ট করা হয়েছিল।
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামার বাজারপাড়া এলাকায় শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিমের গ্রামের বাড়িতে একটি ফ্রেমে বাঁধাই করা আছে তার ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা জুলাই আন্দোলন-বিষয়ক পাঁচটি স্ট্যাটাস। এর মধ্যে সর্বশেষ স্ট্যাটাসটি ছিল তিন শব্দের একটি আহ্বান: ‘চলে আসুন ষোলোশহর।’ এই স্ট্যাটাসটি পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টা পর ২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই চট্টগ্রামের ষোলোশহরে কোটাবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে নিহত হন ওয়াসিম।
ওয়াসিমের মা জোসনা বেগম জানান, তিনি ছেলের স্মৃতি ধরে রাখতে তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার পক্ষ থেকে পাওয়া ক্রেস্টগুলো যত্নে রেখেছেন। এবারের বন্যায় ছেলের অনুপস্থিতি তাকে বিশেষভাবে পীড়া দিচ্ছে, কারণ গতবার ওয়াসিমই বন্যার সময় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। জোসনা বেগম এখনো ছেলের স্মৃতি খুঁজে ফেরেন এবং ১৬ জুলাই তার শাহাদাতবরণ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তার কথা আরও গভীরভাবে মনে পড়ছে।
ওয়াসিমের বোন সাবরিনা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালীন ষোলশহর স্টেশন এলাকায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের হাতে তার ভাইসহ তিনজন শহীদ হন। তিনি তার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন, কারণ তাদের মতে, ওয়াসিমের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।
ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম নিয়মিত ছেলের কবরের পাশে যান এবং সেখানে তার সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তার ছেলে জীবন দিয়ে দেশকে বাঁচিয়ে গেছে। গত ১৩ই জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেন এবং তার মা-বাবাকে সান্ত্বনা দেন, যেখানে ওয়াসিমের মা ছেলের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
তথ্য যাচাই
ঘটনাপ্রবাহ
মন্তব্য
- আআরিফ হাসান
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি।
- ননাফিসা তাবাসসুম
প্রতিবেদনটি খুবই তথ্যবহুল হয়েছে।
- সসজীব রায়
বেসরকারি খাতেও সমন্বয় জরুরি।