আকাঙ্ক্ষার মুখপাত্র: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতার বয়ান
জুলাই গণআন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের ৯ দফা ঘোষণা করে আলোচনায় আসেন। তার সেই ঘোষণা আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দিতে সাহায্য করে।

আবদুল কাদের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন শিক্ষার্থী, জুলাই গণআন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত থাকার সময়ে তার ৯ দফা দাবি ঘোষণা আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়। পরবর্তীতে, এই আন্দোলন একটি গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
গণঅভ্যুত্থানে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে কাদের জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে তার মধ্যে একটা তাগিদ ছিল, যা পরবর্তীতে তাকে সক্রিয় আন্দোলনে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করে। গেস্টরুমের নির্যাতন এবং আবরার ফাহাদের স্মরণসভার জেরে গ্রেফতার হওয়ার মতো ঘটনাগুলো তাকে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে।
যখন আন্দোলনের সামনের সারির নেতারা আত্মগোপনে বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বন্দী ছিলেন, তখন ঝুঁকি নিয়ে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করার সাহস তিনি কোথায় পেলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, অন্যায়-অবিচার থেকে মুক্তি পাওয়ার তাড়না এবং স্বৈরাচারের পতনে ভূমিকা রাখার প্রবল ইচ্ছা থেকেই এই সাহস জুগিয়েছে। ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের প্রতিবাদে ৬ জানুয়ারি রাজু ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়ানোর ঘটনাও তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ।
৯ দফা দাবির প্রস্তুতি প্রসঙ্গে আবদুল কাদের জানান, প্রাথমিকভাবে তার যোগাযোগ ছিল নাহিদ ইসলাম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সাথে। ১৮ জুলাইয়ের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লে, বিশেষ করে ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে, তিনি জানতে পারেন যে কিছু সমন্বয়ক সরকারি প্রস্তাবের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করছেন, যা তাকে আরও উদ্বিগ্ন করে তোলে এবং আন্দোলনের গতিপথ নিয়ে চিন্তিত করে তোলে।
তথ্য যাচাই
ঘটনাপ্রবাহ
মন্তব্য
- আআরিফ হাসান
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি।
- ননাফিসা তাবাসসুম
প্রতিবেদনটি খুবই তথ্যবহুল হয়েছে।
- সসজীব রায়
বেসরকারি খাতেও সমন্বয় জরুরি।